ছোট সিঙ্গাপুরের উন্নতি!

 

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার থেকে একটু বড় সিঙ্গাপুরের জিডিপি বাংলাদেশ থেকেও ৫০ বিলিয়ন ডলার বেশী। সিঙ্গাপুরের রিজার্ভ হচ্ছে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট রিজার্ভের প্রায় ১৫ গুণ বেশী। বাংলাদেশ থেকে ১৬০ গুণ ছোট হয়েও মাত্র ৭২৩ বর্গ কিলোমিটার দেশ সিঙ্গাপুর পৃথিবীর ২৫ তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দূর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায় সিঙ্গাপুরের অবস্থান সপ্তম। অপরদিকে বিএনপি ও জামায়াত সরকারের আমলে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আযম, রাজাকার কামরুজ্জামান আলী আহসান মুজাহিদের সরকার ইসলামের কথা বলে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিলো।আজ তারাই আবার গদি দখল করে দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বড় বড় গল্প শোনাচ্ছে !


মালয়েশিয়ার ১৪ টি রাজ্যর একটি ছিল সিঙ্গাপুর।সিঙ্গাপুর মানে সিংহের শহর হলেও সিঙ্গাপুরে কোন সিংহ নেই। সিঙ্গাপুর শব্দটি এসেছে মালয়েশিয়ান শব্দ সিঙ্গাপুরা থেকে।Singha শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ Simha থেকে, যার অর্থ হচ্ছে সিংহ এবং ( pura) শব্দটির অর্থ হচ্ছে শহর। ১৪৪ বছরের বৃটিশ শাসন থেকে ১৯৬৩ সালে সিঙ্গাপুর মুক্ত হয়েও মালয়েশিয়ার অংশ হয়ে ছিল দুই বছর ।সেই সময় বিশ্বের মধ্যে সিঙ্গাপুর ছিল অনেক দরিদ্র একটি অঞ্চল। তাদের মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ৩৩০ ডলার।


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছিলেন।১৯৬১ সালে নির্বাচনে ইউনাইটেড পিপলস পার্টির এং গুয়ান পিএপি প্রার্থীকে পরাজিত করলে মালয়েশিয়ানদের মধ্যে ভয় শুরু হয়।১৯৬৩ সালে মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরকে তাদের অঞ্চল হিসেবে একত্রিভূত করে। মুসলমানদের সাথে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বন্দ্ব দিন দিন চরমে পৌঁছতে থাকে।মালয় জাতি ও চীন জাতির মধ্যে দ্বন্দ্বও চরমে পৌঁছায়। ১৯৬৪ সালে মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আব্দুল রাজ্জাক এক জনসভায় সিঙ্গাপুরের জাতির পিতা লি কুয়ান ইউকে নির্যাতক ও নীপিড়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, " সিঙ্গাপুরে একজন লি কুয়ান ইউ নয় , যদি এক হাজার লিউ কুয়ান ইউ থাকে , আমরা তাদের শেষ করে দিবো।" 


১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সিঙ্গাপুর রাষ্ট্রের জাতির পিতা লি কুয়ান ইউ সিঙ্গাপুরের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, " আপনাদের প্রধান গুন হবে সততা।' ১৯৬৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত লি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধুমাত্র সততা , পরিশ্রম ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় ৩৩০ ডলার থেকে এখন ৬০ হাজার ডলার হয়েছে। সিঙ্গাপুর এখন মালয়েশিয়ার চেয়েও উন্নত রাষ্ট্র। সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু জিডিপি মালয়েশিয়া থেকে ৫০ শতাংশ এর বেশী।


সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ।যার মধ্যে ১৫ শতাংশ হচ্ছে মুসলমান। সিঙ্গাপুরে প্রায় ২০ শতাংশ খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী বসবাস করে । বিভিন্ন ধর্মের মানুষের দেশ হয়েও সিঙ্গাপুরে তেমন কোন সাম্প্রদায়িক সংঘাত নেই। অথচ, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই এই দেশে পাকিস্তানপন্থী একটি স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক বিরোধ জিইয়ে রেখেছে। হিন্দু ও মুসলিম সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরি করে এরা কখনোই বাংলাদেশকে উন্নত হতে দেয়নি। খ্রিস্টান , বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উপর এই দেশে দিনের পর দিন চলছে অত্যাচার। বাংলাদেশের বুকে পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে গেছে যেন আরেক টুকরো বেলুচিস্তান।একই দেশের নাগরিক হয়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন এক বিশাল সেনা ক্যান্টনমেন্ট ।১৯৭১ সালেও বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল।মোট জনসংখ্যার দুই কোটির বেশি ছিল হিন্দু নাগরিক। বিভিন্ন ধরণের সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করে দেশের হিন্দু জনসংখ্যা এখন দশ শতাংশে চলে এসেছে।

উগ্র ধর্মান্ধতা পৃথিবীর যেকোন দেশের জন্য একটি অভিশাপ।এই উগ্র ধর্মান্ধতার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। শুধুমাত্র উগ্র মৌলবাদী চিন্তার জন্য এই দেশ দুটো দিন দিন খয়রাতি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।শেখ হাসিনা গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের যা একটু উন্নতি করেছিলেন তাও ধ্বংস করে দিচ্ছে উগ্র মৌলবাদ। সিঙ্গাপুর পৃথিবীর বুকে দেখিয়ে দিয়েছে সেক্যুলার রাষ্ট্রের চিন্তা বঙ্গবন্ধুর সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদ থাকতো না। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আজ বাংলাদেশ হতো সিঙ্গাপুরের মত একটি উন্নত দেশ।সকল জাতি ধর্মের মানুষের এই সমান অধিকার চেয়েছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে সকল জাতি ও ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ থেকে ১৬০ গুণ ছোট রাষ্ট্র হয়েও সিঙ্গাপুর পৃথিবীর অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র। অপরদিকে বছর পর বছর বাচ্চা উৎপাদন করে সর্বশ্রেষ্ঠ হতে চাওয়া বাংলাদেশ দিন দিন সব বিশ্ব সূচকে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে। জামায়াত শিবির মৌলবাদীরা ১৯৪৭ সাল থেকেই বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলিম সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দূর্নীতিগ্রস্থ একটি দেশে পরিণত করেছে। অপরদিকে সিঙ্গাপুরে হিন্দু , মুসলমান , বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই একে অপরের কাঁধে হাত রেখে উন্নত ও সমৃদ্ধ সিঙ্গাপুরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। মৌলবাদ ও খেলাফত পুরো পৃথিবীর জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এজন্য ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, মালয়েশিয়া , মিশর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নেই। "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার " এই নীতিতে পৃথিবীতে যারাই এগিয়েছে তারাই পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্র। অন্যদিকে যারা ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করে তারা পৃথিবীর খয়রাতি রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই নয়।


সত্য সবসময় সুন্দর।

লুসিড ড্রিম 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আইয়ুব খানের পর পাকিস্তানে প্রথম ফিল্ড মার্শাল হলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর!